ঐতিহাসিক ঘটনা ও জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ঐতিহাসিক ঘটনা ও জীবনী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

চিরঞ্জীব রনেশ দাস গুপ্ত

(১৫ জানুয়ারি ১৯১২ - ৪ নভেম্বর, ১৯৯৭) সাহিত্যিক, সাংবাদিক সংগ্রামী, রাজনৈতিক কর্মী ও দেশের স্মরণীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা রনেশ দাস গুপ্ত এর ১০১ তম জন্মবাষিকি উপলক্ষে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী  যুক্তরাজ্য সংসদের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি I

পিতা অপূর্বরত্ন দাশগুপ্ত খ্যাতনামা খেলোয়াড় ছিলেন। কাকা নিবারণ দাশগুপ্ত ছিলেন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী ও পেশায় শিক্ষক। আরেক কাকা ছিলেন গান্ধীবাদী স্বদেশী। পারিবারিক পরিমণ্ডল এমন হওয়ার ফলে ছোটবেলা থেকেই দেশ, পরাধীনতা, বৃটিশবিরোধী রাজনীতি ইত্যাদির সঙ্গে রণেশ দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটেছিল এবং পরবর্তী জীবনে এই রাজনৈতিক সচেতনতা তাকে চালনা করেছিল।

১৯২৯ সালের রাঁচির (বিহার) স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে বাঁকুড়ার কলেজে ভর্তি হন। এ সময় অনুশীলন দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ ঘটে ও তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। বাঁকুড়া কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হলে তিনি কলকাতায় এসে সিটি কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু পুলিশের উৎপাতে লেখাপড়ায় বিঘ্ন হওয়ায় বরিশালে এসে ব্রজমোহন কলেজে ভর্তি হন। থাকতেন তার মাতুল সত্যানন্দ দাশের বাড়িতে, ইনি কবি জীবনানন্দ দাশের পিতা। ১৯৩৪ সালে তার পিতা অবসর গ্রহণ করলে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের গাউরদিয়া গ্রামে পৈতৃক বাড়িতে সবাই বসবাস করতে শুরু করেন, পরে ওই গ্রাম পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। তখন সবাই ঢাকা শহরে চলে আসেন এবং সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে রণেশ দাশগুপ্তকে সাংবাদিকতার চাকরি নিতে হয়।

বিখ্যাত পত্রিকা ‘সোনার বাংলা’য় সাংবাদিক জীবনের মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিক জীবনের শুরু। তার লেখক জীবনের শুরু হয় এসময়। সেকালের ঢাকা সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য বিখ্যাত ছিল। তিনি তরুণ সাহিত্যিক সোমেন চন্দ, অচ্যুত গোম্বামী, কবি কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত প্রমুখের বন্ধুত্ব লাভ করেন ও নানা রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত হন।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর রাজনৈতিক কারণে তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। গোটা পাকিস্তানি আমলে তিনি বহুবার কারাবাস করেছেন। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের সময়ে তিনি জেলে ছিলেন এবং সেখানেই তিনি নাট্যকার মুনীর চৌধুরীকে ‘কবর’ নাটক লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ‘কবর’ নাটকটি তাদের চেষ্টায় কারাগারে মঞ্চস্থ হতে পেরেছিল। কারামুক্তির পর ১৯৫৫ সালে তিনি ‘সংবাদ’ পত্রিকায় সাংবাদিকতার চাকরি গ্রহণ করেন। এ পত্রিকাকে ব্যাপক অর্থে প্রগতির মুখপত্র করে তুলতে তার অবদান ছিল বিরাট। তার সাহিত্যিক খ্যাতি ঘটে এ সময়েই, ‘উপন্যাসের শিল্পরূপ’ (১৯৫৯) নামে একটি বিখ্যাত প্রবন্ধগ্রন্থ রচনার জন্য। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র-জন্মশতবর্ষ পালনের সময়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়, ১৯৬২ সালে ছাড়া পান, আবার কারারুদ্ধ করা হয় ১৯৬৫ সালে, ছাড়া পান ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সুবাদে। ১৯৬৯ সালে বিপ্লবী কথাশিল্পী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সারসহ একঝাঁক তরুণ উদীচী গঠন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন, দেশ স্বাধীন হলে প্রত্যাবর্তন করেন। ১৯৭৫ সালের ১ নভেম্বর কলকাতায় একটি সভায় যোগ দিতে গিয়ে সেখানে থেকে যেতে বাধ্য হন, কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশে সামরিক শাসন চালু হয়েছিল। তারপর বাংলাদেশ নানা বিপর্যয় ও উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হয়। তিনি আর ফিরে আসেননি, স্বেচ্ছানির্বাসিতের জীবন বেছে নিয়েছিলেন I


তিনি কয়েকটি ভাষায় পণ্ডিত ছিলেন। ইংরেজি ও উর্দুভাষা উত্তমরূপে আয়ত্ত করেছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই মননশীল প্রবন্ধ ও অনুবাদের।
====প্রবন্ধগ্রন্থ====
উপন্যাসের শিল্পরূপ(বঙ্গাব্দ ১৩৬৬)

·      শিল্পীর স্বাধীনতার প্রশ্নে (বঙ্গাব্দ ১৩৭৩)

·      ল্যাটিন আমেরিকার মুক্তি সংগ্রাম(১৯৭২ খ্রি.)

·      আলো দিয়ে আলো জ্বালা(১৯৭০ খ্রি.)

·      আয়ত দৃষ্টিতে আয়ত রূপ

অনুবাদ

·    ফয়েজ আহমদ ফয়েজের কবিতা (১৯৬৯ খ্রি.)

সম্পাদনা

·   জীবনানন্দ দাশের কাব্যসমগ্র

অকুতোভয় বিপ্লবী প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার




১৯৩২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মাষ্টারদার প্রীতিলতাকে বললেন, পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের নেতৃত্ব তোমাকে নিতে হবে।প্রীতিলতার নেতৃত্বে বিপ্লবীরা ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাত্রে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করে সফল হন।কিন্তু বিপ্লবী প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হন। এ অবস্থায় ধরা পড়ার আগে সঙ্গে রাখা সায়ানাইড বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কারণ ধরা পড়লে বিপ্লবীদের অনেক গোপন তথ্য ব্রিটিশ পুলিশের মারের মুখে ফাঁস হয়ে যেতে পারে।

প্রীতিলতা মারা যাওয়ার আগে মায়ের কাছে লিখেছিলেন, ‘মাগো, অমন করে কেঁদোনা! আমি যে সত্যের জন্য, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দিতে এসেছি, তুমি কি তাতে আনন্দ পাও না? কী করব মা? দেশ যে পরাধীন! দেশবাসী বিদেশির অত্যাচারে জর্জরিত! দেশমাতৃকা যে শৃঙ্খলভারে অবনতা, লাঞ্ছিতা, অবমানিতা!

তুমি কি সবই নীরবে সহ্য করবে মা? একটি সন্তানকেও কি তুমি মুক্তির জন্য উৎসর্গ করতে পারবে না? তুমি কি কেবলই কাঁদবে?????’

************************************************

কিন্তু দুখের বিষয় আমরা অনেকেই এই মহীয়সী নারী কে চিনি ও না আর চিনলেও তার আত্মত্যাগ এর কথা স্মরণ করি না...!!!!!!!

চে গুয়েভারা : শুধু আইকন নাকি একটা মতবাদ?



ধরা যাক, আমার ঘরে মার্কস বা অ্যাঙ্গেলসের ছবি টাঙানো আছে। অথবা ধরা যাক, লেনিন, স্ট্যালিন বা মাও সে তুং আছে। কী মানে তৈরি হয়?
অথবা ধরা যাক আমার ঘরে বলিভিয়ার জঙ্গলে ঘোরা চে, ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সঙ্গে চে অথবা চে'র যে কোনো ছবি টাঙানো আছে। এর মানেই বা কী তৈরি হয়?
কেউ ঘরে লেনিন, মাও বা মার্কসের ছবি টাঙানোর চেষ্টা করেছেন কি না জানি না। মনে মতো একটা পোস্টার সাইজ ছবি পেতে এই ঢাকা শহরে আপনাকে ঘেমে যেতে হবে। যদি না আজিজ মার্কেটের রবিন আহসান সম্প্রতি এদের কোনো পোস্টার না ছেপে থাকে। কিন্তু চের ছবি খুঁজুন। আপনি আমেরিকায় থাকেন, আর ব্রিটেনে, ঢাকা কি বরিশালে চে'র ছবি সহজেই পাবেন। সে ছবি অনায়াসে বাঁধিয়ে ঘরের দেয়ালে এঁটে দিতে পারেন।
ধরা যাক, আপনার বাড়ি কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ বা রাজশাহী। আপনার দেয়ালে চে'র ছবি। কেউ কোনো সন্দেহ করবে? আপনি যে মতবাদে বিশ্বাসী তা নিয়ে কারো মনে কোনো সন্দেহ তৈরি হবে? কেউ আপনার দ্বারা আক্রন্ত বোধ করবে? উত্তর না বাচক হবে বলেই আমার ধারণা। কিন্তু দেয়ালে মাও সে তুংয়ের ছবি টাঙিয়ে দেখুন। আপনি নিমেষে কত মানুষের সন্দেহ, ভীতি আর বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।
কারো ছবি টাঙানোর অর্থ তাহলে তৈরি হয়? ঘরে ঘরে, দেয়ালে দেয়ালে রাজনীতি চলে। মণীষা কৈরালা, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ঐশ্বরিয়া রাই, কার্ল মার্কস, অনুকুল ঠাকুর, লেনিন, মাও সে তুং, চে গুয়েভারা যাকেই বেছে নেন। একটা অর্থ তৈরি হবে। সেটা কী?
চে গুয়েভারার জন্মদিন উপলক্ষে ব্লগে বেশ কয়েকটি পোস্ট হয়েছে। পারভেজ চৌধুরী পাঁচ বা ততোধিক পোস্ট দিয়েছেন। সুন্দর একটি লেখা দিয়েছেন ফারহান দাউদ। লেখাগুলো আমাকে একটা ভাবনায় ফেলে দিলো। দেখলাম, ব্লগে যেখানে মার্কসবাদের বিরোধিতা খুব চালু ব্যাপার সেখানে চে'কে নিয়ে এতো লেখা কারো বিরক্তি বা বিরোধিতা তৈরি করতে পারলো না। তাহলে বিপ্লবী চে'র ইমেজ বিপ্লবের বদলে আমাদের সামনে অন্য কোনো ইমেজে হাজির হয়েছেন? তিনি কি এখন যথেষ্ট বিপ্লবী নন? প্রতিক্রিয়াশীলদের ঘাটানোর যথেষ্ট ক্ষমতা তার নেই?
আজিজ মার্কেটে হোসিয়ারি শিল্প বিকাশের সুফল হিসাবে চে'র ছবি কত সহজেই না আমাদের বুকে পিঠে ঠাঁই করে নিয়েছে। কোর্ট পিন সহ নানা সুভ্যেনিরে চে ভাল আইটেম। চে ক্যাপ, চে ক্যাফে, চে শার্ট, চে পাইপ। কত কিছু। মার্কিন সমাজে যেখানে মার্কসবাদ মোটামুটি নিষিদ্ধ, কিউবা শত্রু দেশ, ফিদেল শত্রু ব্যক্তি সেখানেও চে তরুণদের মধ্যে বড় আইকন। সমাজের কর্তারা চে ইমেজ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত কি না বোঝা যায় না। কিন্তু মাও সে তুং বা লেনিন চে'র জায়গা নিয়ে কী হতো? একটু ভাবা দরকার।
আমি কি কোথাও ভুল করছি? যে প্রাকটিসিং মার্কসিস্ট। লাতিন আমেরিকার জনগণের আন্দোলনে তার বড় ভূমিকা। চে'র প্রথম জীবনের মোটর সাইকেল ডায়েরিজ আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছিল। বীরত্ব, সাহস আর কষ্টে একাকার হয়ে তার শেষ জীবন আমাকে গভীরভাবে তাড়িত করেছিল। চে' যতদিন দিন বেঁচেছিলেন ততোদিন সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের দালালদের শত্রু ছিলেন। তাকে হত্যা না করা পর্যন্ত শত্রুরা থামেনি। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি শেষদিন পর্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। তাহলে, এখন সাম্রাজ্যবাদ তাকে নিয়ে ভীত নয় কেন?
চে কি একজন সক্রিয় মার্কসবাদী নাকি একটি মতবাদের প্রবক্তা?
চে কি বাস্তবতাবাদী বিপ্লবী প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করে নাকি রোমান্টিসিস্ট করে তোলে?
চে কি নির্বিবাদী মার্কসিস্ট ইমেজ তৈরি করে?
চের ইমেজ কি সাম্রাজ্যবাদীরা নতুন করে তৈরি করেছে?
চে কেন মার্কস-বিরোধীদের মধ্যেও সমান জনপ্রিয়?
চে কে ভালোবাসতে কি মতবাদ বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না?
চে কি একটা স্টাইল?
চে কে তাহলে?


কার্টেসিঃ "মাহবুব মোর্শেদ"

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ



হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ (ফেব্রুয়ারি ১, ১৯৩০) বাংলাদেশের সাবেক সেনা প্রধান, এককালীন প্রধান সামরিক প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি। তিনি জাতীয় পার্টি নামক রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বর্তমানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) উপদলের নেতা। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন হতে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।

১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে নির্বাচিত সরকারের অধীনে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন কালে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং সামরিক শাসন জারীর মাধ্যমে দেশ শাসন করেন। দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুন:প্রবর্তনের উদ্দেশ্য ঘোষণা করে তিনি ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে সংসদীয় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করেন। এই নির্বাচনে তিনি স্বপ্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির ভোটপ্রার্থী হিসাবে অংশ গ্রহণ করেন এবং পরে ৫ (পাঁচ) বৎসরের জন্য বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে গণবিক্ষোভের চাপে এবং সেনাবাহিনীর সমর্থনের অভাবে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

জন্ম ও শৈশব

ফেব্রুয়ারি ১, ১৯৩০ তারিখে তিনি রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।[২] তিনি রংপুর জেলায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে এরশাদ

১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০ - ১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৬৮ সালে তিনি শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের মেজর ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯ - ১৯৭০ সালে ৩ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর কমান্ড্যান্ট ও ১৯৭১ - ১৯৭২ সালে ৭ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর কমান্ড্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময়কাল

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় এরশাদ ছুটিতে রংপুর ছিলেন। কিন্তু, মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে তিনি পাকিস্তান চলে যান[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসে তখন তিনিও প্রত্যাবর্তন করেন। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুর সময় আগ্রা ক্যান্টনমেন্টে স্টাফ কোর্সে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এরশাদ

পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অ্যাডজুটান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে তিনি কর্নেল ও ১৯৭৫ সালের জুন মাসে সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭৫ সালের ২৪ অগাস্ট ভারতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তিনি মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান ও Deputy Chief of Army Staff হিসেবে নিয়োগ পান। ১৫ অগাস্ট সামরিক অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠান।[৩]
রাষ্ট্রপতি এরশাদ

৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর, এরশাদের রাজনৈতিক অভিলাষ প্রকাশ হয়ে পড়ে। ২৪ মার্চ ১৯৮২ সালে এরশাদ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন। ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ সাল নাগাদ তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন। ঐ দিন তিনি দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এ.এফ.এম আহসানুদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে নিজের অধিকারে নেন। এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই নির্বাচন বয়কট করে। সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করে। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে এই সংসদ বাতিল করেন। ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সকল দল বয়কট করে। এরশাদের স্বৈরাচারের বিরূদ্ধে দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে সকল বিরোধী দল সম্মিলিতভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে ৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ সালে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ১৯৮৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন , ১৯৮৬ (অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ ১৫ অক্টোবর,১৯৮৬) জয়লাভ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এ নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাছাই –এ কোন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাদ না পড়ায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জন। ৪জন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২ জন ছিল।

১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১২জন প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেনঃ ১। জনাব অলিউল ইসলাম চৌধুরী (সুক্কু মিয়া) ২। আলহাজ্ব মাওলানা খায়রুল ইসলাম যশোরী ৩। আলহাজ্ব মেজর (অব) আফসার উদ্দিন ৪। জনাব মুহাম্মদ আনছার আলী ৫। জনাব মোহাম্মদুল্লাহ (হাফেজ্জী হুজুর) ৬। জনাব মোহাম্মদ খলিলুর রহমান মজুমদার ৭। জনাব মোঃ আব্দুস সামাদ ৮। জনাব মোঃ জহির খান ৯। লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবঃ) সৈয়দ ফারুক রহমান ১০। সৈয়দ মুনিরুল হুদা চৌধুরী ১১। স্কোঃ লিঃ (অবঃ) মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী ১২। জনাব হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ

[৪]
নব্বইয়ের পরে এরশাদ

ক্ষমতা হারানোর পর এরশাদ গ্রেফতার হন এবং ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না-আসা পর্যন্ত কারারূদ্ধ থাকেন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। বি.এন.পি সরকার তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে। তার মধ্যে কয়েকটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং সাজাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও তিনি পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন। ছয় বছর আবরুদ্ধ থাকার পর ৯ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূল ধারার তিনি চেয়ারম্যান।


তথ্যসূত্র

জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইট
বঙ্গভবনের ওয়েবসাইট
Ahmed, Fakhruddin (1994)। Critical times, memoirs of a South Asian diplomat (1st সংস্করণ)। University Press, Dhaka। আইএসবিএন 9840512293।

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

চীনের মহাপ্রাচীর, একটি প্রাচীন লোকগাথা



সময়টা তখন খ্রিস্টপূর্ব ২২০, আজ থেকে প্রায় ২২০০ বছরের ও বেশি আগের। ছিন সাম্রাজ্য সাম্লাতে হিমশিম খাচ্ছন সম্রাট ছিন শ্রি হুয়াং। মঙ্গোলিয়ান দস্যুদের হাত থেকে শহর, নগর আর সম্পদ বাাঁচাতে দরকার মহাপ্রাচীর নির্মাণ । মহাপ্রাচীর তৈরিতে দরকার অনেক মানুষ। কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় যেতে রাজি নয় মৃত্যু হতে পারে জেনে । অক্লান্ত শ্রম আর বিশ্রামের অভাবে কিছু শ্রমিকের মৃত্যু সংবাদ আসতে শুরু করেছে লোকালয়ে। কেও রাজি নয় একই মৃত্যুর কাছে যেতে । শুরু হল ধরপাকড়। যাকে যেখানে পাওয়া গেল ধরে এনে শ্রমিক হিসাবে লাগানো হল।খাবারের স্বল্পতা আর কঠিন শ্রমের কারনে বৈরি আবহাওয়াতে একে একে মারা যেতে লাগল শ্রমিকেরা। মৃতদের লাশ সেই প্রাচীরের পাশেই মাটিতে পুঁতে আবার কাজে যেতে বাধ্য করা হত বেঁচে থাকা শ্রমিকদের। ধরে আনা হত আরও শ্রমিক। সেই সময়ের এক লোককথা ।

লেডি মংচিয়াং, বা সুন্দরী নারী মংচিয়াং, চিনের দক্ষিণ অঞ্চলের এক কৃষক ঘরের মেয়ে। সুন্দরী, কর্মঠ, বুদ্ধিমতী। তার বিয়ে হয় ফান ছি লিয়াং নামের এক সুন্দর ও বিচক্ষণ যুবকের সাথে যে মংচিয়াং দের গ্রামে পালিয়ে এসেছিল সম্রাট ও তার অনুগত বাহিনীর ভয়ে। ধরে নিয়ে যেতে পারে প্রাচীর তৈরির কাজে। সুন্দর বুদ্ধিমান যুবক ছি লিয়াং, সুন্দরী মংচিয়াং এর পরিবারের নজরে পড়ে। বিয়ে হয় তাদের , দুজনের সম্মতিতে , কেননা তখন একজন আরেকজনের প্রেমে আবদ্ধ। সেই কালরাতে, ( মতান্তরে দুইদিন পরে) সম্রাটের লোকেরা ধরে নিয়ে যায় নববিবাহিত ছি লিয়াং কে ।

স্বামীকে হারিয়ে বিষণ্ণতা গ্রাস করে মংচিয়াংকে। উল আর পশমে বুনতে থাকে স্বামীর জন্য শীতের পোশাক, পরম মমতায়। পথ চেয়ে সময় কাটে তার । ছি লিয়াং আর আসেনা। একদিন স্বামীর জন্য বোনা শীতের পোশাক সাথে নিয়ে স্বামীর খোঁজে বের হয় মংচিয়াং। প্রাচীর এর কাজ তখন অনেকদুর এগিয়েছে। একদিন মংচিয়াং তার স্বামীর সহকর্মীদের দেখা পায় , তাদের জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে , তার স্বামী অনেক আগেই অনাহার, অত্যাচার আর কঠিন শ্রমের কারণে মারা গেছে । মংচিয়াং দু’হাত ছুড়ে পাথরে মাথা ঠুকে কাঁদতে থাকে ভালবাসার মানুষ হারিয়ে। তার চিৎকারে আকাশ বাতাসে প্রতিদ্ধনি হয় , স্তম্ভিত হয় সাগরের জল। হঠাত এক বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে সদ্যগড়া প্রাচীর এর ২০০ মাইল । সম্রাট এর আদেশে ধরে আনা হয় মংচিয়াংকে । সম্রাট তার প্রাণদণ্ড ঘোষণা করতে চান কেননা মংচিয়াং এর অদ্ভুত কান্নার মায়াবী শক্তি প্রাচীর ধ্বংস করেছে । কিন্তু তিনি মংচিয়াং এর রূপে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব করেন । আশ্চর্যের বিষয় হল এই যে , মংচিয়াং তাতে রাজি হয় । কিন্তু তিনটি শর্তে -

১) মংচিয়াং এর মারা যাওয়া স্বামীর লাশ খুজে বের করতে হবে
২) মৃত স্বামীর জন্য স্মৃতিমিনার বানাতে হবে
৩) সেই স্মৃতি মিনারে সম্রাট নিজে সহ তার সভাসদরা শ্রদ্ধা জানাবে কাল পোশাক পরে।

সম্রাট মংচিয়াং কে পাবার আশায় তাতে রাজি হয় । সব শর্ত পুরন হবার পর সম্রাট যখন তাকে রাজপ্রাসাদে নিয়ে যেতে চায় তখন সবার চোখ ফাকি দিয়ে মংচিয়াং দৌড়ে সমুদ্রের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহনন করে । তার ভালবাসার প্রতি সম্মান জানাতে সমুদ্রের মধ্যে দুইটি পাথর উত্থিত হয়। একটি মংচিয়াং এর কবর , একটি তার ভালবাসার প্রতি সম্মান জানাচ্ছে । স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এই লোকগাথা নানাভাবে ঘুরেফিরে রঙ পায় ।
 

এখনও শীতের শুরুতে হাজার হাজার কপোত-কপোতি সমুদ্রের তীরে এসে মংচিয়াং এর জন্য খাবার, ফলমূল, শীতের পোশাক, জুতা বিসর্জন দিয়ে পুজা করে সেই অদৃশ্য আত্মার পবিত্রতাকে।