বিনোদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিনোদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ইথিওপিয়ার সুরি জাতির নিষ্ঠুর সৌন্দর্য চেতনা




আফ্রিকার দরিদ্র দেশ ইথিওপিয়া। সেখানকার সুরি জাতির মধ্যে প্রচলিত অদ্ভূত ও নিষ্ঠুর এক সৌন্দর্য চেতনা। বয়ঃসন্ধিকালে এরা এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে খুব জোরে মেয়েদের বেশিরভাগ দাঁত ভেঙে দেয়। রক্ত ভেসে যাওয়া অবস্থাতেই এরপর ক্রিকেট ব্যাটের মতো দেখতে একটা জিনিস মুখে বসিয়ে দেওয়া হয়।

দাঁত ভেঙে তার মধ্যে ডিস্ক (ব্যাট) ঢুকিয়ে নিচের অংশের ঠোঁট তার মধ্যে জড়িয়ে সুন্দর হওয়ার এক রীতি সেখানে চালু আছে। প্রচণ্ড ব্যথা লাগলেও মোটা অঙ্কের পণ পাওয়ার জন্য মেয়েদের এটা করতেই হয়।

একে বলা হয় লিপ প্লেট। যে মেয়ের লিপ প্লেট যত বড় হবে, বিয়েতে তার মা-বাবা তত পণ পাবেন। পণ হিসেবে মেলে গরু। সেই লোভে মেয়ের অসহ্য যন্ত্রণাতেও মা-বাবা বেশ খুশিই হন। এই জাতির ছেলেদের অবশ্য এতটা কষ্ট করতে হয় না। শরীরে ছুঁচের মাধ্যমে রঙ মাখলেই বিবাহযোগ্য হয়ে যায় ছেলেরা। আর মেয়েদের সহ্য করতে হয় অসহ্য যন্ত্রণা, বদলে মেলে লিপ প্লেট আর পণ।

ডেইলি মেইলে গতকাল ইথিওপিয়ার সুরি উপজাতির এমন খবর ও ছবি প্রকাশ পাওয়ার পর সাইবার জগতে তর্ক শুরু হয়েছে। ফেসবুক থেকে টুইটার, ইনস্টাগ্রামে এই ছবি দেদারছে শেয়ার হচ্ছে। সঙ্গে প্রতিবাদও হচ্ছে।

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

এক ট্রাফিক জ্যামে গাড়ির কবরস্থান !





জ্যাম আর জ্যামের অসহনীয় দুর্ভোগের কথা বোঝাতে শুধু ঢাকা শহরের নাম নিলেই হবে। মাইলের পর মাইল গাড়ির দীর্ঘ সারি যেভাবে নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে মনে হয় পথেই কেটে যাবে অনন্তকাল!


সত্যি সত্যিই যদি এমন হয়, কোনো এক ব্যস্ত দিনে বাস-গাড়ির দীর্ঘ লাইন পড়ে গেছেন! সেই লাইনও মাইল পাঁচেকের কম নয়। সবাই ইঞ্জিন বন্ধ করে অপেক্ষা করছে কখন কাটবে এই বন্দিদশা। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর শেষ হয় না।

এভাবেই কেটে গেল একদিন, দু’দিন, এক সপ্তাহ, একমাস। যেখানকার জ্যাম সেখানেই আছে। এর মধ্যেই আটকাপড়া একটি প্রাইভেট কারের মেয়ের সঙ্গে প্রেম হলো এক বাসযাত্রী ছেলের। সেই প্রেমও চলল বছর দু’য়েক। ওই জ্যামের আশেপাশে ঘুরে ঘুরে তারা প্রেম করে। স্বপ্ন দেখে, একদিন এই জ্যাম কেটে যাবে আর তারা সাজাবে তাদের সুখের সংসার।

কিন্তু দিন যায়, জ্যাম কাটে না। শেষে সবার সিদ্ধান্তে সেখানেই তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিল। মেয়ের গাড়িতে সাজানো হলো বাসর ঘর। বছর ঘুরতেই তাদের কোল আলো করে ফুটফুটে দেবশিশু। যুগ পার হয়, জ্যাম সেখানেই থেকে যায়।

শিশু তখন কিশোর থেকে তরুণ, তরুণ থেকে যত বড় হয়, সেই প্রেমিক যুগল হয় বুড়ো। এভাবে একযুগ, দুইযুগ, বছর এখন ৭০। ততদিনে তারা গত হয়েছেন, ঠিক একই জায়গায় এখন তাদের ছেলে-ছেলেবউ। তাদেরও বড় বড় ছেলেপুলে। বয়স হয়েছে, কিন্তু অপেক্ষা কাটেনি। প্রজন্ম ঘুরে অপেক্ষা এখন নতুনের চোখে। কিন্তু সেই জ্যাম এতটুকু নড়েনি, ঠিক সেখানেই আছে!

হ্যাঁ, অতি কাল্পনিক গল্প এটি। তবে গল্পের কাহিনী কাল্পনিক হলেও, ঘটনাটি সত্যি।

৭০ বছরের পুরনো জ্যামটি লেগেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
 সময়। বেলজিয়ামের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান নিয়েছিল মার্কিন সেনাদল। সেসময় তাদের ছেড়ে যাওয়া গাড়ির দীর্ঘ জ্যামটি এখনও লেগে আছে বর্তমান বেলজিয়ামের একটি বনে।

প্রাচীন এ জ্যামকে বলা হয় ‘গাড়ির কবরস্থান’।

অকার্যকর কিছু আইন




অনেক দেশে অনেক রকমের আইন রয়েছে। যার অনেক আইন এখন কার্যকর আবার অনেক আইন শুধু আইন বইয়েই লিপিবদ্ধ। অনেক প্রয়োজনীয় আইন কার্যকর না থাকলেও উদ্ভট ও হাস্যকর বেশ কিছু আইন পৃথিবীতে এখনো কার্যকর রয়েছে। আবার এমনও আইন যা সামাজিক দৃষ্টি ভঙ্গি অনুসারে অন্যায় অনেক কাজকেও বৈধতা দেয়।

তার মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরা হল…………………
১। অ্যামেরিকায় ওক্লোহামায় আপনি কুকুরকে ভেংচি কাটতে পারবেন না, ভেংচি কাটলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজনের হাতে আটক হতে পারেন।

২। বজেমান মন্টেনায় সূর্যাস্তের পর বাড়ির সামনের যায়গায় সকল প্রকার যৌন কার্যকলাপ আইন পরিপন্থী।

৩। ম্যাসাচুসেটসে অনেক পুরনো আরেকটা আইন রয়েছে। গির্জায় গিয়ে কেউ চীনা বাদাম খেতে পারবে না। চীনা বাদাম খেতে গেলে খোসা ভাঙতে শব্দ হয় বলেই এই আইনের প্রবর্তন করা হয়েছিল। আমেরিকার কানেকটিকাট রাজ্যে কড়া আইন রয়েছে, কোনো বাচ্চা পা ওপরে তুলে হাতে হেঁটে রাস্তা পেরোতে পারবে না। এক সময় ছোটদের এ ধরনের প্রবণতা বেশি ছিল বলে কর্তৃপক্ষ এই আইন প্রবর্তনে বাধ্য হয়েছিল।

৪। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে একটা অদ্ভুত আইন প্রচলিত আছে। তা হল, পুরুষ নারীর সাথে ভালোবাসার অভিনয় করলে জরিমানা হবে ২৫ ডলার। এ আইনে আরো আছে যে, পুরুষদের শহরের এদিক-সেদিক অযথা ঘোরা ও নারীদের সঙ্গে ভালোবাসার ভান করা যাবে না! আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা আইন আছে, প্রকাশ্যে কোনো ছেলেকে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে দেখা গেলে ২৫ পয়সা জরিমানা, এই ২৫ পয়সা জরিমানা গুনেই ১৯২১/১৯৫০ সালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীরা প্রেম করতো । আইনটি এখনো আছে তবে কার্যকারিতা নাই। তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার থেকে বই নেয়ার পর নির্দিষ্ট দিনে ফেরত না দিলে অতিরিক্ত প্রতিদিনের জন্য মাত্র ২০ পয়সা জরিমানা আদায় করা হয় এখনও।

৫। অ্যারিজোনায় সাবান চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লে শাস্তি হলো, সেই সাবান দিয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত চোরকে গোসল করানো, যতক্ষণ পর্যন্ত না সাবানটা পুরোপুরি শেষ হয়।

৬। সৌদি আরবে দরিদ্র হওয়া আইনত নিষিদ্ধ। যদি কোন সৌদি নাগরিক যথাযথ আইনসম্মত আয়-রোজগার না করেন তাহলে তাকে কারাগারে বন্দি রাখার বিধান রয়েছে।

৭। পর্তুগালে সমুদ্রে মূত্রত্যাগ করা কে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

৮। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় রবিবারে কোর্ট চত্বরে কোন স্বামী তার স্ত্রী কে প্রহার করলে সেটা আইন পরিপন্থী নয়।

৯। নিউইয়র্কে কোন বিল্ডিং থেকে লাফ দেয়ার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড।

১০। শিকাগো শহরে ১৭ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত সিটি হলের সামনে দিগম্বর বা উলঙ্গ হয়ে প্রতিবাদ করা যায়।

১১। সানফ্রানসিসকো ও ক্যালোফরনিয়ায় ব্যবহৃত জাঙ্গিয়া দিয়ে গাড়ি পরিষ্কার একেবারেই আইনের বিরুদ্ধে।

১২। লুইসিয়ানাতে কেউ তার আসল দাঁত দিয়ে যদি কাওকে কামড়ে দেয় তবে সেটা ছোট অপরাধ। কিন্তু যদি কেউ তার লাগানো দাঁত দিয়ে আক্রমণ করে তবে সেটা চরম অপরাধ।

১৩। ফ্লোরিডায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ছয়টায় পরে জনসন্মুখে বাতকর্ম ছাড়া (বায়ু ছাড়া) নিষিদ্ধ।

১৪। ম্যাসাচুসেটসে গোসল ছাড়া বিছানায় যাওয়া নিষেধ (অন্য আইনে আছে রবিবারে গোসল করা যাবেনা)।

১৫।ওহিও অঙ্গরাজ্যের অক্সেফার্ডে কোনো পুরুষের পোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে পোশাক খোলা মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ।

১৬। ইংল্যান্ডে হাউজ অব পার্লামেন্টের সামনে মৃত্যুবরণ করাটাও বেআইনি।

১৭। লস এঞ্জেলসে কোন ক্রেতার সামনে যদি কোন ওয়েটার বলে ‘আমি একজন অভিনেতা’ তবে সেটা বেআইনি।

১৮। টেক্সাসে কাওকে গুলিবিহীন বন্দুক দিয়ে হুমকি দেয়াও বেআইনি।

১৯। ফ্রান্সের ক্যানে, জুরি লুইস মুখোশ নিষেধ।

২০। পর্তুগালে সাগরে প্রস্রাব করা আইন বিরোধী।

২১। সাউথ ক্যারোলিনায় অববাহিত মেয়েদের এডিবল প্যান্টি পড়া স্বীকৃত নয়।

২২। কেন্টুকিতে পকেটে করে আইসক্রিম নেয়া নিষেধ।

২৩। লোয়া-তে একটানা ৫ মিনিট চুমু খাওয়া নিষেধ।

২৪। ইলিনইসে কোন পোষা প্রাণীকে জ্বলন্ত সিগারেট দেয়া নিষেধ।

২৫। ইন্দোনেশিয়ায় হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। কেউ ধরা পড়লে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।

২৬। সান স্যালভাডরে মাতাল গাড়ি চালকেকে ক্রস ফায়ারে মৃত্যুর বিধান রাখা আছে।

২৭। সিঙ্গাপুরে চুইং গাম অবৈধ।

২৮। উত্তর ক্যারোলিনায় মৃত ব্যাক্তির নামে শপথ নেয়া নিষেধ।

উল্লেখ্য, উপরের অনেক আইন কার্যকর নেই। তবে এগুলো এখনো মজার বা বিস্ময়কর আইন হিসেবে আলোচিত হয়ে আছে।

উদ্ভট ও হাস্যকর,কিন্তু মজার কিছু আইন



আইন হলো এক ধরনের সামাজিক নিয়ম। তা বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে জনগণের দৈনন্দিন জীবন এবং গোটা সমাজের ওপর আরোপ করা হয়। খিৃস্টপূর্ব ৩৫০ বছরে প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক এরিস্টটল বলেছিলেন, আইন হচ্ছে এমন যে তা রাজার সর্বময় ক্ষমতার চেয়েও আরও অধিক শক্তিশালী। তবে আইন কেবল গুরুগম্ভীর আর কঠিন তা কিন্তু নয়, কখনো কখনো তা হাস্যরসাত্বক আর কৌতুকপূর্ণও হয়ে ওঠে।

বিশ্বের অনেক দেশে এমন হাস্যকার আইন রয়েছে আর মজার বিষয় হচ্ছে এ সম্পর্কে ব্রিটেনের একজন লেখক একটি বইও লিখেছেন। বইটির নাম ‘হাস্যকর আইন’। বই-এ বিশ্বের ২৫০টি দেশের সবচেয়ে উদ্ভট আর হাস্যকর আইন সংগ্রহ করে পাঠকদের কাছে প্রকাশ করেছে।
আমরা যদি বিভিন্ন দেশের আইন সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করি তাহলে মজার মজার সব আইন সম্পর্কে জানতে পারবো।
২০০৮ সালে ব্রিটেনের ইউকে টিভি ‘দেশের দশটি সবচেয়ে হাস্যকর আইনের’ বিষয় নিয়ে একটি জনজরিপ করা হয়েছে। এই হাস্যকর আইনের এ তালিকার প্রথম স্থানে যে আইনটি রয়েছে সেটি হলো পার্লামেন্ট ভবনে মৃত্যুবরণ করা আইনত নিষিদ্ধ। কী উদ্ভট আইন। কিছু কিছু আইন বিশেষজ্ঞ এই আইন প্রসঙ্গে হাস্যকর সব যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন- তাদের যুক্তি হলো, পার্লামেন্ট ভবন হচ্ছে একটি রাজপ্রাসাদ, তাই যদি কেউ এই রাজপ্রাসাদে অর্থাৎ পার্লামেন্ট ভবনে মারা যান তাহলে তার রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ রাজকীয় মর্যাদায় সমাহিত করতে হবে, কেননা তখন এটা তার একটি অধিকার। তাই অনেকে ঠাট্টা করে বলেন- পার্লামেন্ট ভবনে যে মূহুর্তে আপনার কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিবে, অবিলম্বে স্বেচ্ছাসেবক দল এসে আপনাকে পার্লমেন্টের বাইরে নিয়ে যাবে, যাতে রাজকীয় ভাবে সমাহিত হবার অধিকারটি আপনার ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য না হয় এবং একই সাথে মৃত্যুর কারণে শাস্তিযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হতে না হয়।

ফ্রান্সে নারীদের পাজামা পরা নিষিদ্ধ ছিল ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত। হাস্যকর এই আইনটি ১৮০০ সালে কার্যকর হয়। আইনে বলা হয়েছিল যে, প্যারিসের নারীরা যদি পুরুষের মতো পাজামা পরতে চায়, তাহলে প্রথমে প্যারিসের পুলিশ দপ্তরের অনুমোদন নিতে হবে।
গত ৩১ জানুয়ারি ফ্রান্সের নারী অধিকার মন্ত্রী একটি দলিলে স্বাক্ষর করে ২০০ বছরেরও বেশি পুরাতন এই উদ্ভট হাস্যকর আইনটি বাতিল করেছেন।
তার মানে ফ্রান্সের নারীরা মাত্র মাস দুয়েক ধরে বৈধতার সাথে পাজামা পড়ছে, এর আগে পর্যন্ত যা ছিল অবৈধ। আমরা সবাই জানি প্যারিস এবং ফ্রান্স হল বিশ্বের ফ্যাশন স্টাইলের উৎস। সেখানকার নারীরা সুন্দর হতে অনেক আগ্রহী। অথচ এরকম একটি আইন এই দেশেই প্রচলিত থাকলো ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে।
২০১২ সালের জুলাইয়ে, ফ্রান্সের আরেকজন পার্লামেন্ট সদস্য এই আইন বিলুপ্তির আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ আইন ফ্যাশন সম্পর্কে আমাদের বিশ্বাস আর রুচিকে অপমান করছে, বিব্রত করছে।

বর্তমানে স্মার্টফোন জনগণের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়। এই ফোনে বিশেষ কিছু অপশন আছে যা নির্দিষ্ট কিছু সফটওয়ারের মাধ্যমে লক বা আনলক করতে হয়। তাই স্মার্টফোন ব্যাবহারকারীরা যার যার নিজের স্মার্টফোনটিকে আনলক করে আরো বেশি এবং সহজে বিভিন্ন মজার মজার সফটওয়ার ইনস্টল করতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় লাইব্রেরি চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে যে স্মার্টফোনের বিশেষ কিছু অপশন তাদের অনুমতি ছাড়া আনলক করা যাবে না। কেননা এভাবে নির্বচারে ব্যবহার করলে তা বিভিন্ন সফ্টওয়ারের কপিরাইট বা মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন করবে। অবশ্য এটি ব্যবহারে একটি পূর্বশর্ত আছে, আর তা হলো টেলিযোগাযোগ কোম্পানীর

অনুমোদন ছাড়া স্মার্টফোন আনলোক করা আইনত দন্ডযোগ্য অপরাধ। এ আইনটি শুনতে যুক্তিযুক্ত মনে হয়। মার্কিন নেট ব্যবহারকারীরা বলে যে, এই আইন হলো ২০১৩ সালের সবচেয়ে হাস্যকর আইন। যেমন, যদি কোনো মানুষ জেনুইন এবং অথরাইজড একটি ভিডিও ক্রয় করে, সেটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে দেখার সুযোগ নেই। এটা কেন দেখা যাবে না বা কেন আমাদের ফোনকে আনলোক করে সংশ্লিষ্ট সফটওয়ার ইনস্টল করার অধিকার নেই?
কম্পিউটার গেম নিয়ে মজার আইনটি চালু আছে গ্রিসে। কম্পিউটার গেম বর্তমানে খুব জনপ্রিয়। বাসায় অথবা ভ্রমণ পথের যেকোনো স্থানে সময় কাটাতে চাইলে গেম খেলতে পারেন। তবে যদি আপনি গ্রিসে ভ্রমণ করেন, তাহলে মনে রাখবেন, সে দেশে পিসি গ্যাম খেলার কথা চিন্তায়ও আনবেন না। কারণ সে দেশের আইন অনুযায়ী, পিসি গ্যাম খেললে তিন মাসের জেল খাটতে হবে এবং এর সাথে ১০ হাজার ইউরো জরিমানাও গুনতে হবে।
গ্রিস সরকার জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণের জন্য এমন আইন জারি করেছে। তবে অনেকেই বলে, যদি জুয়া খেলা নিষিদ্ধ করতে চায়, তাহলে তো কেবল ক্যাফে এবং পানশালার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যথেষ্ট। অবশ্য বসায় বসে খেললে আইনের দৃষ্টিতে কোনো অসুধিবা হবে নেই। ‘হাস্যকর আইন’ বইতে লেখা আছে, থাইল্যান্ডে আন্ডারওয়ার না পরে বাইরে যাওয়া আইনত দন্ডনীয়। আবার কোমরের ওপর খোলা শরীর নিয়ে গাড়ি চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সুইডেনে খুব মজার একটি আইন আছে। সুইডেনের আইন অনুযায়ী, রাত দশটার পর টয়লেটে ফাশ করা নিষিদ্ধ। ঘ্রাণশক্তি/ বায়ু দূষণের তুলনায় সুইডেন সরকার মনে করে শব্দদূষণ আরো গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাই যদি আপনি দশটার পর টয়েলেটে ফাশ করেন তাহলে আপনি পরিষ্কার ভাবেই আইন লঙ্ঘন করবেন এবং যথাযথ শাস্তি ভোগ করতে হবে আপনাকে।
সুস্বাদু ফল হিসেবে কাঁঠালের জনপ্রিয়তা সর্বজনবিদিত। কিন্তু ব্রুনেইতে যদি আপনি কোনো প্রকাশ্য স্থানে কাঁঠাল খাওয়া শুরু করেন তাহলে আপনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করবেন। বাসে, সাবওয়েতে, হোটেলে এবং বিমানবন্দরে কাঁঠাল খেতে নিষিদ্ধ করেছে ব্রুনেই সরকার।
সিংগাপুরের একটি আইন যা খুব কঠোর এবং তা বিশ্ববিখ্যাত। তুমি কি চুইংগাম খাওয়া পছন্দ কর? যদি কখনো সিংগাপুরে প্রকাশ্যে চুইংগাম খাও, নিশ্চিত ভাবে তুমি করাগারে যাওয়ার জন্য তৈরী থাকতে পরো। ১৯৯২ সাল থেকে সিংগাপুরে প্রকাশ্যে চুইংগাম খাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।

জানা-অজানা অদ্ভুদ মজার কিছু আইন



• ইন্দোনেশিয়ায় হস্তমৈথুনের শাস্তি হলো মুন্ডচ্ছেদ!!
• আমেরিকার কলাম্বিয়া প্রদেশে মেয়ের বাসর রাতে তার মার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক!!
• লেবাননের আইন অনুসারে কোন পুরুষ লোক গৃহপালিত পশুর সাথে সহবাস করতে পারে!!
কিন্তু পশুটা অবশ্যই মাদী হতে হবে!! মদ্দা পশুর সাথে সহবাস করার শাস্তি হলো মৃত্যুদন্ড!!
• গুয়ামের আইন অনুসারে কোন কুমারী মেয়ে বিয়ে করতে পারেনা!!
তাই কিছু লোক আছে যারা পয়সার বিনিময়ে কুমারিত্বের অভিশাপ মুক্ত করার কাজ করে!!
মেয়ের বাবা-মা সাধারনতঃ এই কাজের জন্য অনেক টাকা থরচ করেন!!
মজার বিষয় হলো এরা কাজ শেষে সার্টিফিকেট দেয়!!
• হংকং এর আইন অনুসারে কোন মেয়ের স্বামী পরকীয়া করলে তাকে সে খুন করতে পারে!!
তবে খুনটা করতে হবে খালি হাতে!!
আর যে মেয়ের সাথে পরকীয়া প্রেম করছিল, তাকে খুন করার জন্য যেকোন অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে!!

জেনে নিন চুম্বন সম্পর্কে অজানা যত মজার তথ্য




চুম্বনে দুটি দেহের উত্তেজনা বেড়ে যায়, একপর্যায়ে তারা যেন দুই দেহ এক আত্মায় বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু চুম্বন সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য আপনি হয়ত জানেন না। আর এর জন্য আমাদের এই আয়োজন।

চুম্বনের উৎপত্তি :
ইংরেজি “kiss” শব্দটি এসেছে প্রাচীন ইংরেজি শব্দ cyssan থেকে যার অর্থ চুমু খাওয়া। তবে এটি সম্পর্কে কেউ নিশ্চিত নন যে cyssan শব্দটির সঠিক উৎপত্তিস্থল কোথায়। তবে ধারণা করা হয় যে চুমু খাওয়ার সময়ের আওয়াজ থেকেই এর উৎপত্তি।

রোমানরা চুমু খাওয়াকে বিভিন্ন নামে সম্বোধন করে থাকে। যেমন হাতে বা গালে চুম্বন করাকে বলে basium, ঠোঁটে চুম্বন করাকে বলে osculum এবং প্রগাঢ়ভাবে চুম্বন করাকে বলে saviolum।

তবে গ্রিকরা চুম্বনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করতো না কিন্তু ভালাবাসা প্রকাশের জন্য কিছু শব্দ ব্যবহার করত। বিশ্বস্ত ভালোবাসা যেমন পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের ক্ষেত্রে Philia, কামনাপূর্ণ ভালোবাসার জন্য eros শব্দগুলো ব্যবহার করা হত। তবে প্লেটো এক সময় ঘোষণা দেন যে কারও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে থাকলেও eros শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন যে সত্যিকারের ভালোবাসার ক্ষেত্রে শারীরিক মিলনের কোনো বাঁধাই থাকা উচিৎ না।

শেষ পর্যন্ত গ্রিকরা সবচেয়ে আবেগঘন আর শক্তিশালী ভালোবাসার জন্য agape শব্দটি ব্যবহার করে যা থেকে মূলত চুম্বন বা শব্দটির উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।

চুম্বন পদ্ধতিটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে :
চুম্বন পদ্ধতিটি আসলে কীভাবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে তার সঠিক তথ্য বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করতে পারেন নি। তবে ধারণা করা হয় যে আদিমকালে মা তার শিশু সন্তানকে মুখে করে খাবার খাওয়াতেন ঠিক যেভাবে পাখি তার শাবক বাচ্চাটিকে খাইয়ে থাকে। এখান থেকে চুম্বনের দৃশ্যগত সূত্রপাত। এরপরে রোমান ও গ্রিক বিভিন্ন ভাস্কর্যে দুটি মূর্তির মুখে মুখ লাগানো বিষয়টি ফুটে ওঠে। এভাবে আস্তে আস্তে এক সময়ে আলেকজান্ডার দি গ্রেট এর সময়কালে চুম্বন পদ্ধতিটি সর্বাধিক ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হয়।

চুম্বনের কেমিস্ট্রি :
একটি সুষ্ঠু এবং আনন্দঘন যৌন মিলনের জন্য চুম্বন একটি অতিপ্রয়োজনীয় উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে যে চুম্বনের সময়ে ডোপামিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নির্গত হয়। এটি একটি শক্তিশালী হরমোন যা কোকেনের ন্যায় মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং যৌন মিলনের ইচ্ছায় শরীরে এক আনন্দময় অনুভূতির সঞ্চার করে। এটি ঘুম ঘুম ভাব, অতিরিক্ত ক্ষুধা এবং প্রচুর এনার্জী উৎপাদন করে।

এছাড়া চুম্বনের ফলে শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে অক্সিটসিন নিঃসারিত হয় যা শক্তিশালী এক অনুভূতির সৃষ্টি করে। বিজ্ঞানীরা শারীরিক মিলনের সময়ে বেশি করে চুম্বনের অভ্যাস গড়ে তোলার নির্দেশ দেন যার ফলে একটি সুখী ও আনন্দময় দাম্পত্যসম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

চুম্বনের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা :
বেশ কয়েকটি গবেষণায় উঠে এসেছে যে আনন্দদায়ক এই চুম্বনের কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। প্রতিটি চুম্বনের ফলে সৃষ্ট লালার সাথে থাকা ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের ইমিউন পদ্ধতিকে চালিয়ে নিতে সহায়তা করে। এছাড়া চুম্বন করলে দাঁত পরিষ্কার থাকে কেননা এর ফলে লালায় থাকা বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে মুখ পরিষ্কার রাখে। চুম্বনে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত হয়, হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে এবং রক্তনালী প্রসারিত হয় যা অত্যন্ত স্বাস্থ্যপোযোগী। অবশ্য অসুস্থ কারও সাথে চুম্বনে জড়িয়ে পড়লে হিতে বিপরীতও হতে পারে।

চুম্বনের বিজ্ঞান :
চুম্বন বিষয়ক পড়াশোনার নাম হল ফিলেমেটোলজি। যারা এই বিষয়ে পড়াশোনা করেন তারা শুধু এর বাহ্যিক বিষয়টি নিয়েই গবেষণা করেন না এর অভ্যন্তরীণ খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন। অনেকেই বলে থাকেন যে প্রথম চুম্বনের মোহ অন্যরকম, যা কখনই ভোলা যায় না। কিন্তু বিজ্ঞান কিছুটা ভিন্ন কথাই বলে। চুম্বনে মূলত স্বাদ, শব্দ এবং গন্ধ এই ৩ টি বিষয়ই কাজ করে। তবে চুম্বনটি স্পর্শকাতর নাও হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় ৬৬ শতাংশ নারী প্রথম চুম্বনের প্রতি একেবারেই আসক্ত নন বা প্রথম চুম্বন তাদের ততটা ভালো লাগে না। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় যে পুরুষের তুলনায় নারীরাই চুম্বনে বেশি আনন্দ পেয়ে থাকেন।

বিশ্বের শতকরা ১০ শতাংশ মানুষই চুম্বন করেন না :
সারা বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই চুম্বন করেন কিন্তু প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ চুম্বন ছাড়াই সরাসরি যৌন মিলনে মিলিত হন। বিভিন্ন কারণে এরা এটি করে থাকেন। তার মধ্যে একটি অদ্ভুত কারণ হল সুদানদের একটি বিশ্বাস। সুদানরা চুম্বন থেকে বিরত থাকেন কেননা তারা বিশ্বাস করেন যে মুখ হল মানুষের আত্মার জানালা সরূপ। চুম্বনের সময়ে কেউ তার আত্মাটি এই মুখ রূপ জানালা দিয়ে চুরি করে নিয়ে যেতে পারে।

আবার এস্কিমোরা বিশ্বাস করেন যে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে চুম্বন করার সময়ে তাদের মুখ দুটি একসাথে আটকে যেতে পারে। এই ভয়ে তারা শারীরিক মিলনের পূর্বে চুম্বন থেকে বিরত থাকেন।

তবে বাংলাদেশেও একটা বড় সংখ্যক মানিশ এই চুম্বনে ততটা অভ্যস্ত নন। কেননা তাদের কাছে শারীরিক মিলন কোনো শৈল্পিক বা ভালোলাগার চাহিদা নয়, এক ধরনের অতি প্রয়োজনীয় জৈবিক চাহিদা যা চুম্বন ছাড়াও সম্ভব।

চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড :
দীর্ঘ চুম্বনের বিশ্ব রেকর্ড করেন থাইল্যান্ডের ইকাচাই এবং লাকসানা তিরানারাত নামক দম্পতিটি। তারা ২০১৩ সালে ৫৮ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ৫৮ সেকেন্ড এর একটি দীর্ঘ চুম্বন করে রেকর্ডটি গড়েন।

চুম্বন পরিপন্থি দেশ :
বিশ্বে এমনও দেশ রয়েছে যেখানে চুম্বন করা একটি দন্ডনীয় অপরাধ। মেক্সিকোতে মেনুয়েল বেরুমেন নামক একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জনসম্মুখে তার স্ত্রীকে চুম্বন করায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিছু দেশে এর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে অনেকটা পাশবিকভাবে।

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০১৫

সেক্সটিং



মনোবিদ অনুত্তমা মজুমদার বলছেন, “অনেক দিনের প্রেম, অনেক দিনের দাম্পত্য শরীরেও একটা একঘেয়েমি এনে দেয়। রোম্যান্স বা যৌন উত্তেজনা হারিয়ে যায়। ‘সেক্সটিং’ সেই বসন্তকে জ্বালিয়ে দেয়। আমার কাছে এমন অনেক ক্লায়েন্ট আসেন যারা বলেন, ও আমাকে আগের মতো আর ভালবাসে না। আসলে এটা ভালবাসার বিষয় নয়। কমিটেড রিলেশনে ভালবাসা বা কোনও সম্পর্কে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনতে, অনেক দিনের চেনা সম্পর্কেও সেক্সটিং-এর প্রবণতা এখন বাড়ছে।”

সেক্স আর টেক্সট মেসেজকে একযোগে নিজের পছন্দসই শব্দে, ছবিতে ভরিয়ে ইনবক্স থেকে মেসেজবক্স সাজিয়ে তোলার নেশায় ভিজে যাচ্ছে বাঙালির চেতন-অবচেতন। কোথাও কিছুর যেন অপেক্ষা নেই, ফাঁক নেই। সেক্সটিং পুরিয়ে দিচ্ছে মন ছোঁওয়া শরীরী সাধ। লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ, প্রেমে ব্যথা পেয়ে সিঙ্গল থাকার ফূর্তি, প্রেম নয় অথচ প্রেম সম্পর্কে জেরবার এই প্রজন্ম বেঁচে আছে সেক্সটিং-এর খুঁটি ধরে। আপাত ‘ভালগার’ শুনে গা রি-রি করলেও, নিজের মতো ভাল থাকার এই জগতে ক্ষণিকের আনন্দযাপন থেকে বিরত থাকাই যে দায়!
তবে ‘সেক্সটিং’ কোনও নতুন শব্দ নয়। টেক্সট মেসেজের সঙ্গে রগরগে ভাষা এবং নিজের বা অন্যের ছবি পাঠানোই হল সেক্সটিং-এর মোদ্দা গপ্প। মূলত ২১ শতকের শব্দ সেক্সটিং। ২০১২ সালে মেরিয়ান ওয়েবস্টার ডিকশনারিতে এই শব্দ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

সেক্সটিং এক্কেবারে নতুন শব্দ না হলেও যৌনতার ভাষা এখন বদলে গিয়েছে। তা এখন আর সুড়সুড়ির পর্যায়ে নেই। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের খোলা হাওয়ায় খুল্লামখুলা চুমু-র চমকের পর ‘সেক্সটিং’ শুনে মুখ লুকনোর দিন শেষ। ছেলেমেয়েরা উচ্ছন্নে গেল বলে বাবা-মায়েরা যদি কাঁদতে বসেন তো সমূহ বিপদ! সম্পর্ক এখন আলগা চাওয়া-পাওয়ার। এই চাওয়া-পাওয়াগুলো সামনে যখন মেটে না তখন যদি তা ‘সেক্সটিং-এর মাধ্যমে জোটে তা হলে মন্দ কী? মনোবিদরা বলছেন, অস্থির জীবনে স্বস্তি আনতে সেক্সটিং-এর জুড়ি নেই, এতে মন ভাল থাকে।

সেক্সটিং কেমন করে চলে?

এই আলোচনা শুরু হয় অপর প্রান্তের মানুষটি কী পোশাক পরে আছে, তাই দিয়ে! তার পরবর্তী ধাপে দুই প্রান্তের নানা শারীরিক চাহিদা ফুটে ওঠে সেক্সটিং-এ। চালাচালি হতে পারে নিজেদের একাধিক নগ্ন শরীরের ছবি বা পর্ন ছবি। সেক্সটিং কি তা হলে এক ধরনের পারভার্সন? জোর আপত্তি তুলেছে এই প্রজন্ম।

“আমার অনেক সেক্সটিং পার্টনার আছে। সবাই ক্লাসমেট। এমনিতে মেসেজ হতে হতেই তো সেশন শুরু হয়। ভীষণ রিল্যাক্স লাগে আফটার সাচ সেশন। এর মধ্যে পারভার্সনের কী আছে? এটা জাস্ট একটা ভাললাগা। তা হলে তো পর্নোগ্রাফি দেখাও পারভার্সন। আর দু’জনের যেখানে সমর্থন রয়েছে সেখানে সেক্সটিং ইজ ভেরি হেলদি।” জোরের সঙ্গে বললেন দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী অণ্বেষা।

এই প্রসঙ্গে অবশ্য সেক্সটিং নিয়ে আর একটা প্রশ্নও ওঠে! কারা এতে বেশি নিমগ্ন থাকে? মেয়েরা না ছেলেরা?
এখানে মেয়েরাই হাত তুলে নিজের অস্তিত্ব জানাচ্ছে। কাজের জন্য কথায় কথায় বিদেশে যাওয়া এই প্রজন্ম একে অপরকে কাছে পেতে, স্কাইপে, হোয়াটস অ্যাপে, নানা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘সেক্সটিং’-এর মাধ্যমে নিজেদের চাহিদাকে উজাড় করে দিচ্ছেন। “আমার স্বামী থাকেন মিশিগানে। আমি কলকাতায় চাকরি করি। চাকরি ছেড়ে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা নিয়মিত স্কাইপে বা টেক্সট মেসেজে শরীর দেওয়া-নেওয়ার আনন্দটুকু মিটিয়ে নিই। আমি এতেই ভাল থাকি। আমার স্বামীর থেকে আমিই বেশি অপেক্ষা করে থাকি ভোরের জন্য, ওটাই আমাদের সময়। কখনও ও রাজি না থাকলে আমি নিজেই আমার পোশাক বর্ণনা দিয়ে ওকে রাজি করাই। সুখটুকু খুঁজে নিতে ক্ষতি কী?” কফিতে চুমুক দিয়ে মুচকি হেসে জানালেন কলকাতার এক নাম করা হাসপাতালের পদস্থ কর্মী লোপামুদ্রা সরকার।

কলেজ জীবনে পাঁচ বছরের সম্পর্কে ধাক্কা খেয়েছিলেন স্বাতী দত্ত। পুরোদস্তুর আবেগপ্রবণ স্বাতী ডিপ্রেশনে চলে যান। ধাক্কাটা এমনই লাগে যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে গিয়ে তিনি একের চেয়ে অধিক পুরুষের অ্যাটেনশন দাবি করে বসেন। বর্তমানে স্বাতীর ছ’জন ‘সেক্সটিং’ পার্টনার। কোনও কমিটমেন্ট বা সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় স্বাতীর পক্ষে এটা চালানো সম্ভব হচ্ছে বলে জানালেন মনোবিদ নীলাঞ্জনা সান্যাল। স্বাতী তাঁরই ক্লায়েন্ট। ‘সেক্সটিং’ কিছুটা ক্ষতিও করছে বলে মানছেন তিনি।

মনোবিদ রঞ্জিতা বিশ্বাসের মতে, সেক্সটিং অন্য অনেক টার্মের মতোই একদম এই সময়ের একটা শব্দ। সেখানে ছবি শেয়ারিং বা সেক্সুয়াল কথাবার্তার মাধ্যমে একটি ছেলে বা মেয়ে সাময়িক যৌন আনন্দ খুঁজে নেয়। কিন্তু এতেই তো শেষ নয়। শারীরিক সম্পর্কের জন্য যখন আর সে ভাবে অপেক্ষা করতে হয় না এই প্রজন্মকে, সেখানে কেন সেক্সটিং? ভীষণ নবিশ মনে হয় না? “আসলে আমার কাছে কাউন্সেলিং-এ আসা ছেলেমেয়েদের দেখে মনে হয়েছে, এরা ওপেন স্মার্ট হলেও অন্যের সামনে নিজেকে খুলে ধরতে সময় নেয়। সেক্সটিং-এর ভারচুয়াল গ্যাপ নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। আবার অনেকে জানিয়েছে সেক্সটিং-এ যৌন ক্ষিদে মিটে যায়, তাই আর শারীরিক সম্পর্কের দিকে তারা উৎসাহ পায় না।” বললেন রঞ্জিতাদেবী।

মনোবিদ অনুত্তমা জানালেন আরও ভয়ঙ্কর দিকের কথা! তাঁর মতে, এই প্রজন্মের বহু ছেলেমেয়ে টাকার জন্য সেক্সটিং করে থাকে। স্কুল বা কলেজের পকেটমানিতে মদ বা আরও কোনও নেশার খিদে তো মেটে না, অনেক সময় সেটা পূরণের জন্য বা নিছকই টাকার লোভে ছেলেমেয়েরা বয়সে অনেকটা বড় কারও সঙ্গে ‘সেক্সটিং’ করতে আরম্ভ করে, যা থেকে বেরিয়েও আসতে পারে না। এটা কিন্তু বেশ চিন্তার। আর অপরাধের দিকটা? প্রেমিকার নগ্ন ছবি বাজারে বেচার জঘন্য মানসিকতা? অপর দিকের মানুষটি আদতে কেমন, তা-ও তো আপনি জানেন না। তার কাছে চলে যাওয়া কয়েকটা সুন্দর মুহূর্ত পরে আত্মহত্যার কারণ হবে না তো?

শুধু সেক্সটিং করার আগে আরও এক বার ভাবুন, শরীর শরীর তোমার মন নাই!

(সংগৃহীত)