সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৪

রাশেদের জন্মদিন






ছবির হাটের গেইট দিয়ে সোহরাওয়ারদিতে ঢুকল রাশেদ চমৎকার এ প্রকৃতি দর্শন করা যাক আকাশে বিরাট এক থালার মতো চাঁদ- চারিদিকে বইয়ে দিচ্ছে তার ঝকমকে আলোর বন্যা দূর থেকে মৃদু গাড়ির আওয়াজ, মানুষের কোলাহল শোনা যাচ্ছে পাখির কিচিরমিচির নেই-সব বোধহয় সন্ধ্যা নামায় নীড়ে ফিরে গেছে তবে বেড়েছে সন্ধ্যা রাতের অন্য পাখির আনাগোনা একটু বা দিকের এককোণ থেকে ভেসে এল মেয়েলি কণ্ঠের চাপাহাসি চাঁদের আলো কিংবা রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো কোণগুলি যেন আরও জমাট আধার করে দিয়েছে আবছা আলোয় একটা সাদা শার্ট পড়া লোকের অবয়ব বোঝা যাচ্ছে তার সাদা ভৌতিক হাতের ছায়া উঠছে-নামছে, নড়ছে খুব ব্যস্ত কোন গুপ্তরহস্য উন্মোচনের আনন্দ নিতে নিষিদ্ধ আনন্দ... হাহ !! সব মোহ-ক্ষণিকের মোহ... এই মোহ,আনন্দের স্বাদ পায়নি রাশেদ জীবনে কিন্তু কি দরকার? সবচেয়ে বড় যে মোহ-জীবনের মোহ, তাইতো শেষ হয়ে গেছে ওর

আজ রাশেদের জন্মদিন। আজ দিনটা রাশেদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আজ রাশেদের মৃত্যুদিনও বটে। আজ রাতই ওর জীবনের শেষ রাত। আত্মহত্যা করবে ও। পৃথিবীর অনেক বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির জন্ম আর মৃত্যুদিন একই। আজকের দিনটা মৃত্যুদিন হিসেবে বেছে নেয়ার কারণ-দিনটা রাশেদের খুব পছন্দ। না, অনেক মানুষ তাকে উইশ করে, গিফট দেয়, ওর জন্য বিশেষ কিছু করার চেষ্টা করে তাও না। কারণটা হল, ওর নিজের বলতে, নিজের পরিচয় বলতে এই একটা দিনই ওর কাছে আছে। 

বাইশ বছর আগের কথা। ভাদ্র মাসের প্রচণ্ড গরমে একটা মোটা কাপড় পেঁচানো বাচ্চাকে দেখা গেল এক মাদ্রাসার সামনে। হয়তো কাপরের পুটুলির ভেতর যে একটা বাচ্চা থাকতে পারে তা কেউ বুঝতেও পারতোনা। মোটা কাপড়ের ভেতর গরমে অতিস্ট হয়েই বাচ্চাটা হয়তো চিৎকার করে নিজের অস্তিত্ব জাহির করেছিল। মাদ্রাসার ইমাম এগিয়ে এলেন। বাচ্চাটার গায়ে রক্তের ছোপ তখনো লেগে আছে। কয়েক ঘণ্টা আগেই জন্ম হয়েছে। অনেক খোঁজ করেও যখন বাচ্চার পরিচয় পাওয়া গেলনা তখন বাচ্চাটার জায়গা হল এতিমখানায়। 

এতিমখানাতেই বাচ্চাটা বড় হতে থাকলো, পড়াশুনা চলতে থাকল। দিনে সীমিত খাবার আর রাতে ঠাণ্ডা, ভেজা মেঝেতে ঘুম- ছেলেটার স্বাস্থ্যও খারাপ হতে থাকল দিনে দিনে। ইমাম সাহেব ভালো চোখে দেখতেন ওকে। পড়াশুনায় ভালো বলে তার জানাশোনা এক স্কুলে বিশেষভাবে ওকে ভর্তি করিয়ে দিলেন। একসময় রাশেদ এসএসসি পাস করল। এক সরকারি কলেজে ভর্তিও হয়েছিল কিন্তু পড়াশুনাটা আর হলনা। ইমাম সাহেব মারা গেলেন। নিজের খরচ চালাতে ছোটখাটো কাজ করে আর পড়াশুনা হলনা। বছর দুয়েক পর যাত্রাবাড়ীতে ছোট্ট একটা ফোনের দোকান দিলো ও। দিনে কাজ, রাতে মেসে এসে ঘুমানো, কখনো একাকি নির্ঘুম রাত পার করা এই হয়ে গেল জীবন।

ভাবতে উদ্যানের লেকের কাছে এসে পড়ল একটা কংক্রিটের বেঞ্চে বসলো আশেপাশে কত মানুষ, কত প্রাণচাঞ্চল্য পাশের বেঞ্চে হাত ধরাধরি করে বসে আছে একজোড়া ছেলেমেয়ে ভালবাসার আবেশে আছে ওরা কিন্তু কণ্ঠে অনিশ্চয়তার ছাপ
-জাকির, আমাদের বিয়েটা কবে হবে? বাবা মাকে আর কতদিন আটকে রাখতে পারব? আগামীকালও এক পাত্রপক্ষ আসবে শুনলাম এমনি আর কতদিন বিয়ে করবনা জিদ দেখিয়ে ওদের না করব?
-এইতো আর কিছুদিন জান নতুন চাকরি আর কিছুদিন পেলেই সবদিক গুছিয়ে আনতে পারবো তারপরই তোমার বাসায় প্রস্তাব...
রাশেদ হাসল আর কিছুদিন পর সব গুছিয়ে তারপর ছেলেটা মেয়েটার বাসায় প্রস্তাব দিবে! অথচ, স্বর্ণাকে পেলেই ওর অগোছালো জীবনটা এমনি এমনি গুছিয়ে যেত হাহ...স্বর্ণা...
স্বর্ণা প্রায়ই ওর দোকানে আসতো ফোন করতে কখনো কলেজ থেকে ফেরার সময় আবার কখনো বিকেলে হঠাৎ করেই ফরসা, গোলগাল মুখ, খাড়া নাক চুল কিভাবে বাধত কে জানে কিন্তু সবসময়ই চুলের একটা গোছা বাকা হয়ে কপালে পড়ে থাকতো দেখতে ভালো লাগত মেয়েটাকেই রাশেদের ভালো লাগত ধীরেধীরে ভালো একটা সম্পর্ক হয়েছিল ওদের মাঝে রাশেদ স্বর্ণাকে ওর জীবনের সব কথা বলেছিল ফোন না করলেও মাঝেমাঝে দোকানে এমনি আসতো স্বর্ণা ওর সাথে কথা বলতো রাশেদের জীবন আনন্দে কাটছিল সারাদিন একটা অনিশ্চিত অপেক্ষা ওর আসার, আর আসলে সারাদিনের অপেক্ষার ক্লান্তি জয়
একদিন স্বর্ণাকে কলেজ থেকে ফেরার সময় নিয়ে এল এই সোহরাওয়ারদিতে নতুন একটা লাল শার্ট পড়েছে রাশেদ ওকে মনের কথাটা বলে ফেলল স্বর্ণা চুপ, গম্ভীর
স্বর্ণা, কিছু বল 
এটা সম্ভব না আপনি অসম্ভব একটা কথা বলেছেন 
কেন? আমিতো ভাবতাম তুমিও আমাকে পছন্দ করো তুমি যে প্রায়ই দোকানে কথা বলতে আসতে আমার সাথে আমিতো ভেবেছিলাম তুমিও আমার মত...
আপনি ভাবলেন কিভাবে!! আমি আপনার দোকানে কিছুদিন গেলাম আর আপনি ভেবে নিলেন যে লোকটার জন্ম পরিচয় নাই, জন্মের ঠিক নাই তাকে আমি ভালবাসি !!! এটা ভাবার সাহস কিভাবে হল আপনার !!
রাশেদের চারপাশ দুলতে লাগলো অবাক ব্যাপার! কেন আগে কথাগুলি ভাবেনাই! ছোটবেলা থেকে কয়জনের কাছ থেকে মানুষের মতো আচরণ পেয়েছে? জন্ম নিয়ে সন্দেহ, পরিচয়হীনভাবে পৃথিবীতে এসে যে অন্যায় করেছে তাতে স্বাভাবিক জীবনের আশা কি করতে পারে?
স্বর্ণা উঠে চলে গেল রাশেদ বসেই রইল ওর আর কখনো স্বর্ণার সাথে দেখা হয়নি

শিখা অনির্বাণের পাশে দেয়ালের উপর বসে আছে রাশেদ প্রায় রাত সাড়ে দশটা বাজে নিচে দেখা যাচ্ছে আরেক দুনিয়া অনেক লোক, যুবক বসে গাঁজা টানছে, কেউকেউ আরও কিসব মাদক নেশার ঘোরে ওরা হয়তো অন্য এক জগতে প্রবেশ করছে যেখানে বাস্তব পৃথিবীর কোনও ঝুটঝামেলা নাই শুধু ঘোরলাগা কিছু মুহূর্ত জীবন পার করে দেয়া
রাশেদ নেমে আসে এগিয়ে যায় সামনের দিকে
পার্কের রমনার মুখোমুখি মেইন গেটটা পাশে বকুলতলার নিচে একটা পরিবার অস্থায়ী আশ্রয় নিয়েছে তিনজনের পরিবার মাঝবয়সি এক পঙ্গু লোক, তার স্ত্রী আর - বছরের একটা বাচ্চা পরিবারটির পেশা হয়তো ভিক্ষাবৃত্তি আর রাতের অস্থায়ী আবাস এখানে গায়ের উপর কাপড় মুড়ি দিয়ে ঘুম দিলেই তো রাত পার রাশেদ একটু দূরে সাইডওয়াকে বসে তাদের দেখছে রান্নার আয়োজন চলছে-মেইনরোডের সাইডওয়াক থেকে -৬টা ইট খুলে এনেছে বউটা কিছু ডালপাতা আগেই যোগাড় করেছে রাশেদের বারবার চোখ যাচ্ছে বাচ্চাটার দিকে অনেক আনন্দে আছে বাচ্চাটা- বাবার কোলে হুটোপুটি খাচ্ছে, আধোআধো কথা বলছে... আহা! যদি নিজেও এভাবে বাবা-মার বুকে এভাবে হুটোপুটি খেতে পারত !!
সালমা সালমা। কই গেলি বাচ্চা ফালাইয়া- … ওই সালমা
লোকটার চিৎকার শুনে বাস্তবে ফিরে এল রাশেদ। আবার তাকাল ওর দিকে। লোকটা বউকে ডেকেই যাচ্ছে। বাচ্চা কাঁদছে।
ভাই…’ রাশেদ আবার তাকাল। লোকটা তার দিকে চেয়ে ডাকছে তাকে। রাশেদ উঠলো।
জী বলেন
ভাই, আপনেরে তো আগে এইখানে দেহিনাই। আপনি ক্যাডা? এইখানে রাইতের বেলা যত ব্যাটা আহে গাঞ্জা খাইতে, নিশা করতে হেগো সবতেরে আমি মুখ চিনি। আপনেরে তো আগে দেহিনাই।
হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন। আমি এখানে নেশা করতে আসিনি। অন্য দরকারে এসেছি।
কিসের দরকার?
আমি এখানে মরতে এসেছি। মৃত্যুর আগে শেষবারের মত প্রকৃতি, জীবন দেখতে এসেছি এখানে।
মরতে আইছেন ! কি কন?? কিল্লিগ্যা (কীজন্য)? হইছেডা কি?
শুনে আপনি কি করবেন? অবশ্য আপনাকে বললেও ক্ষতি নাই। কারো না কারো গল্পটা তো জানা দরকার- আমিও তাতে মন হাল্কা করে মরতে পারবো। ছেলের সাথে আপনার আদর মাখা সম্পর্ক দেখে খুব ভাল লেগেছে। আবার খারাপও লেগেছে। নিজের জন্য। আমার বাবা নেই। আসলে বাবা মা কেউ নেই- আমি জানিইনা আমার বাবা মা কেজন্ম সম্পর্কে একটা জিনিসই শুধু আমি জানি। যে আজ আমার জন্মদিন
লোকটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল রাশেদের দিকে।ভাই আপনি বসেন। আপনার গল্পটা পুরাটা শুনিনাই। থাক, আপনেরে একটা গল্প শুনাই। আমার গল্প…’
রাশেদ বসলো। লোকটা পা ছেঁচড়ে নিজেকে টেনে আনল ওর মুখোমুখি। বাচ্চাটার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।
ভাই, আমার নাম নুরু। এর আগেও কিছু নাই, পরেও কিছু নাই। সবাই ন্যুরা ডাকে। নামটা কে দিসে তাও কইতে পারতাম না। একদম ছোট্টকাল থেইকা আমি এই রাস্তায়। রাস্তার আগে কোথাও ছিলাম কিনা তাও জানিনা। কারণটা আপনের মতনই। কখনও জানিনাই আমার বাপ মা ক্যাডা। কতবেলা না খাইয়া থাকছি হিসাব নাই। কত্ত কাম করছি প্যাডের (পেটের) দায়ে। মিন্তির কাম করসি, রিকসা ঠেলসি, কাগজ টোকাইসি, খিদার চোটে হোটেল থেইকা খাওন চুরি করতে গিয়া মাইরও খাইসি। কেউ মায়া দেখায়নাই। মায়া দেখাইব ক্যাডা? আমার লগে রাস্তায় যেসব পোলাপান ছিল তারাও আমারে জাউরা জাউরা কইয়া গাইল(গালি) দিত
নুরু থামল। স্মৃতিচারন করতে গিয়ে চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে। রাশেদ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

একটু বড় হইতে রাস্তায় ফেরি করা শুরু করলাম। বাসে বাসে এইডা ওইডা বিক্রি করতাম। একবার এক বাস থেইকা পত্রিকা বেইচা নামার সময় পা পিছলাইয়া পইড়া গেলাম। হাহ- পা দুইডাও গেল। কন ভাই, জীবন থেইকা কি পাইলাম? তাও ভাই আমি হাল ছাড়িনাই। এক জন্ম পরিচয় না থাকায় এই জীবনে কেউ মায়া করেনাই, কেউ বোঝেনাই যে আমি মায়ার কত কাঙ্গাল। তখনি ভাবসি যে আমি যে কষ্ট পাইসি তা আমার সন্তানরে কখনও পাইতে দিমুনা। ওরে মায়ায় মায়ায় ভরায় রাখুম। আর কেউ আমারে মায়া করেনাই- আমার বউ পোলাপান থেইকা সেই মায়া আমি নিমু
কোলের বাচ্চাটা নড়ে উঠলো। উষ্ণতা পেয়ে ঘুমিয়ে গেছে। নুরু তাকে বুকে জড়িয়ে বলল-
ভাই, আমগো যেই জিনিসটা দরকার তা হইল মায়া। একবার কারো মায়া পান- দেখবেন জীবনডা কত সুখের। কষ্ট সক্কলের আছে। এক্কেবারে বড়লোক থেইকা গরিব পর্যন্ত সবার। আমি সারাদিন ভিক্ষা করি, পাও নাই, কোনও থাকার জায়গা নাই- কিচ্ছু নাই। কিন্তুক, যখন এই পোলাডা, বউডা মায়া করে, লগে ঘুমায়, আমি অগো মুখের দিকে চাইয়া থাকি। কত্ত সুখ লাগে। ভাই, মরন কোনও কিছুর সমাধান না নিজের সবকিছু দিয়া সুখ বানাইয়া নেয়া, খুইজা নেয়াতেই সমাধান
নুরু রাশেদের পিঠে হাত রাখল। রাশেদ ডুকরে কেঁদে উঠে।  নুরু চিৎকার করে উঠে।সালমা, ওই সালমাখিচুড়ি বহা। আজ না ভাইএর জন্মদিনওই, কি কই শুনস???’
রাশেদ ঝাপসা চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। ঝাপসা চাঁদটা আজ যেন অনেক বড়। ওর সারা শরীর চাঁদের আলোয় উদ্ভাসিত। রাতের অন্ধকার, গাছের ছায়া কিছুই সে আলো আটকাতে পারছেনা।
রাশেদ পাশে তাকাল। সালমা খিচুড়ি বসিয়েছে। ঘ্রাণ ছড়িয়েছে সবদিকে। খাবারের ঘ্রাণ, জীবন উপাদানের ঘ্রাণ, জীবনের ঘ্রাণ নুরুর দিকে তাকাল। নুরুর চোখে অকৃত্রিম মায়া হয়তো আরও কেউ আরও বেশি মায়া নিয়ে অপেক্ষা করছে ওর জন্য জীবনে।

আশা।বেঁচেথাকারআশা।জন্মদিনেরাশেদেরসবচেয়েবড়উপহার
  

 "সংগ্রহৃত"

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

জানি না কোথায়?












মোর তৃসিত আত্না মৃগ তৃষ্ণ তোমারে খুজিয়া মরে।
কত মধু যামিনী বিজয়া দশমী আসে যায় ফিরে,
বরষ'ও বরষ পরে রিক্ত শূন্য হাতে আলেয়ার পথে
বিরহ তিমিরে বেদুঈন মজনু যেন লাইলীর খোজে।
পুনুর্জনমের পথে আবার আসিবে কি ফিরে মজনুর খোজে?
পরজনমে রাধিকার বেশে আসিবে কি ফিরে মিলন মালা হাতে!


কবিঃ এ্যালভীন দীলিপ বাগচী‬

বন্ধুত্ত এবং ভদ্রতা

আমার এলাকার এক বন্ধু আছে। নামটা বলা কি থিক হবে? নামটা না হয় না ই বল্লাম। ধরি তার নাম "দ"।মানুষ বিভিন্ন নামে তাকে ডেকে থাকে।
এবার মূল ঘটনায় আসি।
ঘটনা টা হল ৩০ শে সেপ্টেম্বর ২০১৪ রাত ১০:00মিনিট।মিঃ "দ" কল দিয়ে কইলোঃ "কই আসস"?
আমি বললামঃ "আমার বাসার সামনে।"
মিঃ "দ" বললোঃ"খারা, আমি আইতাসি।"
১০ মিনিট পর উনি আসলেন এবং যথারিতি তিনি বিভিন্ন বিসয় নিয়া কথা বলছে। যার বেশীর ভাগ ই ফিল্ম বিসয়ক। আমি ও শুনে ই যাচ্ছি।
মিঃ "দ" এর একটা অভ্যস যে কথায় কথায় এক ই ডায়লগঃ "এইই বন্ধুবান্ধব? চিনলাম।চিনলাম।"
সে যাইহোক তিনি আসার ২০ মিনিট এর মাথায় বাসায় যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে গেল। আর বললোঃবাসায় জামু আগায় দিয়া আয়।
আমি বলললামঃ ক্যান? তর বাসায় দাওয়াত দিলি??
উনি বললোঃতরে তো অনেক কই, কিন্তু তুই তো আমার বাসায় যাস না
আমি বলললামঃ"তাইলে চল তর বাসায়, আজকে।"
যাইহোক, উনার বাসার উদ্দেশে যাচ্ছি। মাঝ রাস্তায় যাওয়ার পর তিনি আমারে কইলোঃ"কই যাস"
আমি বলললামঃ"ক্যান? তর বাসায়।"
উনি বললেনঃ এত রাত এ যাবি আমার বাসায়?
আমি বলললামঃ"তুই তো কইলি?
উনি বললেনঃ"আমি তো তরে ভদ্রতার খাতিরে কইসি।"
আমি বললামঃএত ই যখন ভদ্রতা তর তাইলে আগে ই কইতি। এত দুর এ আইনা ভদ্রতা চো**স ক্যান?"
উনি বললোঃ "আরে দোস্ত সামনে কুরবানির ঈদ। তুই কুরবানির গরু মাংসের যে আইটেম খাইতে চাস তাই খাওয়ামু। আজকে নাহ।"
আমি বললামঃ"আমি কিসসু জানি নাহ। আজ কে তর বাসায় আমি জামু।"
উনি বললঃ "নাহ আজকে নাহ।"

আমি মনে মনে চিন্তা করলাম -"আজকে তমারে সিক্ষা দিয়া ছারমু চান্দু।আজকে তুমারে এমন পেইন দিমু যে কাউরে বাসায় নেওয়ার কথা কওয়ার আগে ১০ বার চিন্তা কইরা তারপর কইব ।"
এর মধ্যে রাস্তায় দেখা হইল আমার ইস্কুল লাইফের দুই বন্ধু। তারা জমজ ভাই।উনাদের সাথে ও প্যচাল শুরু হইল।
তারপর মিঃ "দ" আমাকে উনার এলাকায় নিয়া কইল - "দোস্ত চা খা।"
আমি বলললামঃ "তর বাসায় যাইয়া ই তো চা খাইতে পারি। চল বাসায় যাই তর।"
উনি কিসু ই বলেন না।উনি দোকান থেকে "ওয়ান টাইম ব্রেড" নামক রুটি কিনলো। আমি তো পুরা টাস্কি। এইডা কি হইল?
যে মানুষ রে চা খাওইতে কইলে কইতো -"দোস্ত! টাকা নাই। যেই টাকা আছে সেইটা মা য়ের টাকা।বাসায় এইটা অইতা কিন্না লইয়া যাইতে হইব।"
২ ঘন্টা পাড় হইল প্রায়। ঘড়িতে সময় তখন ১১: ৪০। উনি আর আমি উনার বাসার নিচে। হটাত করে কইল উনি চলে যাবে বাসায়। আমি ও মজা নিতাসি। একসময় তিনি খেপে গেলেন আর সিড়ি দিয়া উঠে চলে গেলেন।মানুষ আসলেই অদ্ভুত।
# উপরুক্ত, কাহিনী সুধুই আমার ক্ষুদ্র জীবনের অভিজ্ঞতা। কাউকে হেও প্রতিপন্য করার জন্য নয় আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার জন্য ই আমার এ সুদীর্ঘ স্ট্যাটাস।
আমার এই বিরক্তিকর কাহিনী শুনে বিরক্ত হইলে ভাল আর বিরক্ত না হইলে আরও ভাল।

 লেখকঃ তোফায়েল আহমেদ

আমার চেতনা











আমি হয়তো পৃথিবীর জন্য নিতান্তই একজন তৃতীয় বিশ্বের মানুষ কিংবা বাংলাদেশের খুব সাধারন একজন নাগরিক।কিন্তু আমি আমার বাবা-মা এর জন্য এক বুক আশা, একমাত্র অবলম্বন ; আমার প্রেমিকার কাছে প্রেমিক। তাই এখন থেকে জাতি,সমাজ,রাস্ট্র কিংবা পৃথিবী কোন বিষয় নিয়ে ই ভাববো না।

# কি লাভ রাজনৈতিক সচেতন হয়ে?
- যে সচেতনতা সুধুই দিবে ধিক্কার।
# কি হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেতনায়?
- যা শুধুই অলিক স্বপ্ন আর জনগণের আবেগকে নিয়ে ফুটবল খেলা।
# কি অর্জিত হবে নেতৃত্ব দিয়ে?
- যে নেতৃত্ব আমায় শুধুই করবে ক্ষমতালোভী পিশাচ।
# কি লাভ ধার্মিক হয়ে?
- যে ধার্মিকতা আমায় বানিয়ে দিবে ধর্মব্যবসায়ী।
# কি করবো ধর্মনিরপেক্ষ মানুষিকতা দিয়ে?
- যা কিনা আমায় নাস্তিকতা-আস্তিকতায় প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
# আর স্বাধীনতা?
- হা হা হা। সে তো সবলের যা খুশী তাই করার স্বাধীনতা।

তাই এখন থেকে আমি শুধুই আত্বকেন্দিক সার্থপর। সুধুই বাবা-মা এর অবলম্বন হয়ে থাকবো। আরো ভালো সন্তান হবো। আরো ভালো প্রেমিক হবো। আরো ভালো স্বামী হবো।আরো ভালো বাবা হবো। আর সুধুই আমার কাছের মানুষ গুলো কে নিয়ে ই ভাববো।তাদের ভালোর জন্য যা কিছু করতে হয় করবো সেটা ভালো ই হোক কিংবা খারাপ।
আজকে থেকে সকল চেতনার পু**কি মারি।
শুধুই প্রিয়জনদের আরো প্রিয় হওয়ার চেতনায় পথ চলবো।

পরিশেষে একটা গান গেয়ে শেষ করবোঃ-
"দেশ যাক গোল্লায়, মেপে দিবো পাল্লায়।"

 লেখকঃ তোফায়েল আহমেদ

বউ - নির্মলেন্দু গুণ













কে কবে বলেছে হবে না? হবে,বউ থেকে হবে ।
একদি আমিও বলেছিঃ 'ওসবে হবে না ।'
বাজে কথা । আজ বলি,হবে,বউ থেকে হবে ।
বউ থেকে হয় মানুষের পুনর্জন্ম,মাটি,লোহা,
সোনার কবিতা, ---কী সে নয়?

গোলাপ,শেফালি,যুঁই,ভোরের আকাশে প্রজাপতি,
ভালোবাসা,ভাগ্য,ভাড়াবাড়ি ইতিপূর্বে এভাবে মিশেনি ।
ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল,দুইজন্ম এবার মিশেছে,দেখা যাক ।

হতচ্ছাড়া ব্যর্থ প্রেম,গাঁজা,মদ,নৈঃসঙ্গ আমার
ভালোবেসে হে তরুণ,তোমাকে দিলাম,তুমি নাও ।
যদি কোনদিন বড় কবি হও,আমার সাফল্য
কতদূর একদিন তুমি তা বুঝিবে ।

আমি কতো ভালোবাসা দু'পায়ে মাড়িয়ে অবশেষে,
কল্পনার মেঘলোক ছেড়ে পৌঁছেছি বাস্তব মেঘে ।
আজ রাত বৃষ্টি হবে মানুষের চিরকাম্য দাবির ভিতরে ।

তার শয্যাপাশে আমার হয়েছে স্থান, মুখোমুখি,
অনায়াসে আমি তা বলি না, বলে যারা জানে দূর থেকে ।
আমি কাছে থেকে জানি, বিনিময়ে আমাকে হয়েছে দিতে
জীবনের নানা মূল্যে কেনা বিশ্বখানি, তার হাতে তুলে ।
অনায়াসে আমিও পারিনি । ক্রমে ক্রমে, বিভিন্ন কিস্তিতে
আমি তা দিয়েছি, ফুলে ফুলে ভালোবেসে যেভাবে প্রেমিক ।

প্রথমে আত্মার দ্যুতি, তারপর তাকে ঘিরে মুগ্ধ আনাগোনা ।
স্বর্গের সাজানো বাগানে পদস্পর্শে জ্বলে গেছি দূরে, তারপর
পেয়েছি বিশ্রাম । আজ রাত সম্পর্কের ভিতরে এসেছি ।

সবাই মিলবে এসে মৌন-মিহি শিল্পে অতঃপর,
তোমার প্রদত্ত দানে পূর্ণ হবে পৃথিবী আমার ।

আবার যখনই দেখা হবে - নির্মলেন্দু গুণ











আবার যখনই দেখা হবে, আমি প্রথম সুযোগেই
বলে দেব স্ট্রেটকাটঃ 'ভালোবাসি'।
এরকম সত্য-ভাষণে যদি কেঁপে ওঠে,
অথবা ঠোঁটের কাছে উচ্চারিত শব্দ থেমে যায়,
আমি নখাগ্রে দেখাবো প্রেম, ভালোবাসা, বক্ষ চিরে
তোমার প্রতিমা। দেয়ালে টাঙ্গানো কোন প্রথাসিদ্ধ
দেবীচিত্র নয়, রক্তের ফ্রেমে বাঁধা হৃদয়ের কাচে
দেখবে নিজের মুখে ভালোবাসা ছায়া ফেলিয়াছে।

এরকম উন্মোচনে যদি তুমি আনুরাগে মুর্ছা যেতে চাও
মূর্ছা যাবে,জাগাবো না,নিজের শরীর দিয়ে কফিন বানাবো।

'ভালোবাসি' বলে দেব স্ট্রেটকাট, আবার যখনই দেখা হবে।